যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই হামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রশিবির এই ঘটনাকে ‘গণহত্যাকারী সংগঠন নিষিদ্ধ-ঘোষিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ কাজ বলে উল্লেখ করেছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম একটি যৌথ প্রতিবাদ বার্তা প্রকাশ করেন। তাদের বার্তায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ আখতার হোসেনের ওপর সংঘটিত এই হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বরং এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর পেছনে থাকা কারণগুলো তুলে ধরেন।
হামলার কারণ ও দায়বদ্ধতা
ছাত্রশিবিরের নেতৃদ্বয় তাদের প্রতিবাদ বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের বিভাজন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং সমাজে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা বারবার সংঘটিত হচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার এবং দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ কোনোভাবেই এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। এই ধরনের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে তারা মনে করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। একই সাথে, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এটি গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করেন, এমন ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ধরনের হামলা দেশের বাইরে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
দাবি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সাথে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এমন হামলা বন্ধ করা কঠিন।
এই প্রতিবাদ বার্তার মাধ্যমে ছাত্রশিবির কেবল হামলার নিন্দা জানায়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়েও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আশা করেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে নজর দেবে। এই হামলার ঘটনা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে তারা মনে করেন।