সাবেক সচিব এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী তার দল থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে পুনরায় যোগ দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই পোস্টে সোলায়মান চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, তিনি সদ্য এবি পার্টি ত্যাগ করেছেন এবং আল্লাহর নাম নিয়ে আবার জামায়াতে ফিরে এসেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। ফেসবুক পোস্টে সোলায়মান চৌধুরী এবি পার্টিতে তার অবস্থান এবং দলের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে দলে নামকাওয়াস্তে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছিল। তার মতে, উপদেশ চাইলে উপদেশ দেওয়া যায়, কিন্তু চাওয়া না হলে তা দেওয়ার সুযোগ থাকে না। এই পরিস্থিতিতে তিনি মনস্থির করেন যে, যে অঙ্গীকার নিয়ে তার মাধ্যমে এবি পার্টি একটি নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তার ছিটেফোঁটাও এখন দলের মধ্যে অবশিষ্ট নেই। তিনি আরও বলেন যে, দলের নেতারা এখন অন্য কাজে ব্যস্ত। এমন একটি দলে থাকার চেয়ে না থাকাই শ্রেয় মনে করে তিনি এবি পার্টির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং এ বিষয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের কারণ সোলায়মান চৌধুরী তার পোস্টে এবি পার্টির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবি পার্টি একটি ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। দেশের কোথাও দলের জনসম্পৃক্ততা নেই, বরং দিন দিন এবি পার্টির বিভিন্ন জেলার নেতারা পদত্যাগ করে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তার অভিযোগ, এবি পার্টি মানুষের সেবা করবে, মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করবে, এবং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবে—এই মূল লক্ষ্য থেকে দলটি অনেক দূরে সরে গেছে। তিনি মনে করেন, মানুষের অধিকার কোথায় খর্ব বা হরণ হচ্ছে, তা মানুষের কাছ থেকে জেনে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার যে মহান ব্রত নিয়ে এবি পার্টি গঠিত হয়েছিল, তার আর কিছুই হচ্ছে না। জামায়াতে ইসলামীতে প্রত্যাবর্তন সোলায়মান চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি নতুন কোনো দলে যোগ দিচ্ছেন না, বরং তার পুরাতন রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীতে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে এবং আমির তাকে প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আমিরের সামনে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আবার জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন। বর্তমানে কেবল লিখিত আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সোলায়মান চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে তারা সম্মিলিতভাবে দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং এ দেশকে একটি সুন্দর দেশে পরিণত করতে পারবেন। এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সোলায়মান চৌধুরী তার পোস্টে এবি পার্টির আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—এই তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে এবং সাত দফা কর্মসূচি সামনে রেখে ২০২০ সালের ২ মে এবি পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় দেশের প্রায় ৫৩টি জেলায় ও ৩০০টি উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয় এবং দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকারের নানা চাপে নির্বাচন কমিশন এবি পার্টিকে নিবন্ধন দেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলুমবাজ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, লুটপাট, মানুষের অধিকার হরণে জড়িত আওয়ামী লীগ সরকারের চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেয়নি। তবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী পটপরিবর্তনের পর এবি পার্টি নিবন্ধন লাভ করে।