চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন যে, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে মসজিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং সমাজে সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতেও অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর পাটানটুলী বংশাল পাড়া বায়তুল গোফরান জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মসজিদের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

মেয়র শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সমাজ থেকে অস্থিরতা ও অবক্ষয় দূর করতে এবং মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধ অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রধান কেন্দ্র হলো মসজিদ। মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এখানে মানুষ একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করে, একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে এবং উন্নত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বায়তুল গোফরান জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এটি এলাকার মুসল্লিদের জন্য আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ইবাদতখানা হবে।

চট্টগ্রামের সম্প্রীতি ও উন্নয়ন

মেয়র তার বক্তব্যে চট্টগ্রামকে একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন চায় এই নগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নে সিটি কর্পোরেশন সবসময় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি আশা করেন, এই মসজিদের নির্মাণ কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি আলোর বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মেয়রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নবনির্মিত মসজিদটি যাতে সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে সে জন্য দোয়া করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, আসরাফ খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. রিয়াদ খান। উপস্থিত ছিলেন মসজিদের উপদেষ্টা শেখ আকবর সওদাগর, মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. বাবুল সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক পাবেল আজিম, আনোয়ার বেগ সওদাগর, অর্থ সম্পাদক মো. হাসান টিপু, ইকবাল হোসেন, টিপু হোসেন বাবুর্চি, ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, আলী ফজল, হাজী আবু হোসেন, হাজী মো. হোসেন, মো. মামুন, মো. ইসহাক, মো. সৈয়দ, মো. মাসুদ, জাগির হোসেন, মো. রুবেল, রায়হান সিদ্দিকী, মো. আরজু, মো. ইমতিয়াজ, মো. তানিম, মো. আলভি প্রমুখ।

এই পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদটি এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।