বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বৈঠকে নতুন একটি লোগো সামনে আসে। এই লোগোটি দলীয় পতাকা এবং দেয়ালের ছবিতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন লোগোর বিবরণ ও জনমত

নতুন লোগোটিতে একটি সবুজ পতাকার মাঝে একটি কিতাবের ওপর উদীয়মান সূর্য দেখা যায়। এর উপরে একটি কলম রয়েছে, যা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার দণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিতাবের দুই প্রান্ত থেকে একটি অর্ধ পরাবৃত্তও লোগোটিতে বিদ্যমান। এই নতুন নকশাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অ্যাক্টিভিস্ট এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের লোগো পরিবর্তনের এই বিষয়টি রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, এটি জামায়াতের সেক্যুলার হওয়ার চেষ্টা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর আস্থাভাজন হওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

জামায়াতকে মানুষ একটি ইসলামি দল হিসেবেই চেনে। সেক্ষেত্রে বর্তমান লোগোতে ‘আল্লাহ’ এবং ‘আকিমুদ দ্বীন’ শব্দ দুটি না রেখেই নতুন লোগো তৈরি করা ঠিক হবে না। এতে সাধারণ মানুষ যেমন বিভ্রান্তিতে পড়বে, তেমনই জামায়াতের অনেক কর্মীও হতাশ হবেন। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল হবে। গুটিকয়েক সেক্যুলার লোকের ‘মৌলবাদী’ ট্যাগিং থেকে বাঁচাতে বৃহৎ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মানসিকতার কথা ভুলে গেলে চলবে না।

এই মন্তব্যটি করেছেন জামায়াত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মী।

আগের লোগোটার মধ্যে একটা ঐতিহ্য, ভাবগাম্ভীর্য ও আদর্শের আবহ ফুটে উঠতো। কোটি প্রাণের স্পন্দন- কোটি চোখের প্রশান্তি ছিল পূর্বের লোগো। নয়া লোগোর ব্যাপারে দ্বিমত ও প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম।

তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্য নুরুল হুদা হাবিব ফেসবুকে এই কথাগুলো লিখেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের একজন সাবেক সাথীও এই লোগো পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “জামায়াত অনেক বিষয় সংস্কার করছে এবং তাদের কৌশলে নানা পরিবর্তন নিয়ে আসছে। কিন্তু লোগোর এই পরিবর্তনে তৃণমূল পর্যন্ত সমালোচনা হচ্ছে। আগের লোগোটি জামায়াতের ঐতিহ্য ছিল। রাজনৈতিক কৌশলের কারণে লোগো পরিবর্তন করতে হলে, অন্তত কোরআনের আয়াতটা রাখা উচিত। যদি এই লোগো জারি থাকে তাহলে এর প্রভাব আগামী নির্বাচনেও পড়তে পারে।”

জামায়াত নেতৃত্বের ব্যাখ্যা

এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, “আমাদের লোগো পরিবর্তন করা হচ্ছে। আমিরের নির্দেশনায় বেশ কয়েকটি লোগো ডিজাইন করা হয়েছে। এই লোগোটি ভুলবশত ছবিতে চলে এসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চূড়ান্ত লোগো প্রকাশ করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, লোগো নিয়ে নির্বাহী পরিষদে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেই এটি অফিসিয়াল লোগো হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এই ঘটনাটি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত পরিবর্তন এবং জনমতকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।