শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন আলোচিত চিকিৎসক ও জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) সহ-সভাপতি ডা. সাবরিনা। জিসাসের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে সরাসরি বাধা দেন। এই ঘটনার একপর্যায়ে তাকে সমাধি প্রাঙ্গণ থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
এই ঘটনাটি শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় সংঘটিত হয়। জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জিসাস নেতারা তাদের সংগঠনের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। ডা. সাবরিনা যখন শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান, তখনই তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হন।
ছাত্রদলের প্রতিবাদ ও স্লোগান
কর্মসূচি শুরুর আগে ডা. সাবরিনা ফুল হাতে নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছামাত্র ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের এই অংশটি ‘আওয়ামী দোসর’ এবং ‘করোনা টিকা কেলেঙ্কারি’র মতো বিভিন্ন ইস্যুতে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের এই প্রতিবাদের মুখে ডা. সাবরিনাকে সমাধি প্রাঙ্গণ থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং তিনি সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এই সময়ে সেখানে বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেজাউদ্দোলা চৌধুরী, জিসাস সভাপতি মতিউর রহমান ডিজেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানসহ জিসাসের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. সাবরিনার প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা এবং ছাত্রদলের প্রতিবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সাবরিনা তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,
ছাত্রদলের যারা আমাকে বাধা দিয়েছে, তারা আমার ছোট ভাই। তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি মনে করি তারা ভুল করেছে, ভবিষ্যতে তাদের ভুল ভাঙবে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ডা. সাবরিনা আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান যে, তিনি পূর্বে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন এবং সেই সময়কালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার মতে, সেই সময়কার একটি ছবিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে নিজেকে বিএনপি পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার দাদি খালেদা রব্বানী চারবারের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার চাচাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
ডা. সাবরিনা আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার পর তিনি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।