জিয়া মঞ্চের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি আব্দুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, দেশে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কারণে। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাদের মাধ্যমেই দেশে দুঃশাসনের সূচনা হয়েছিল এবং এখনও ফ্যাসিবাদের দোসররা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। আব্দুস সালামের এই বক্তব্য জিয়া মঞ্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোকপাত করেন।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানাধীন জিয়া উদ্যানস্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর মাজারে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়, যা শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি অংশ ছিল। এই আয়োজনে প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন, যারা তাদের প্রিয় নেতার আদর্শকে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে তারা সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতি তাদের দৃঢ় সংকল্পের কথা জানান।
ফ্যাসিবাদের আগমন ও দুঃশাসনের অভিযোগ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিয়া মঞ্চের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, আজ জিয়া মঞ্চের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুযায়ী দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। তিনি তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন যে, গত সতেরো বছর ধরে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার এদেশকে শোষণ করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, এখনও ফ্যাসিবাদের দোসররা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি এবং তারা একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তার ধারণা।
আব্দুস সালাম আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে একটি রাজনৈতিক দলের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটিয়েছিল। তার মতে, এই রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই দেশে দুঃশাসনের সূচনা হয়েছিল। তিনি এই পরিস্থিতিকে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। আব্দুস সালামের এই মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অতীতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম দেশের জন্য ক্ষতিকর।
নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ও অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও দোয়ায় অংশ নেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন যে, জিয়াউর রহমানের আদর্শই পারে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল্লাহ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলহাস ইসলাম এবং সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন। এই নেতারাও আব্দুস সালামের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জিয়া মঞ্চ তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।