বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে যে, ভারতের কলকাতার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’ তাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া বলে অভিহিত করেছে। মঙ্গলবার ‘এই সময়’ পত্রিকা “বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন‍ এক বন্ধনীতে রাখছে, প্রশ্ন মির্জার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে বিএনপি মহাসচিব ওই পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

বিএনপি আজ এক বিবৃতিতে এই তথাকথিত সাক্ষাৎকারকে ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানান, বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি কোনো বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দল ও মহাসচিবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এই কল্পনাপ্রসূত সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়েছে।

বিএনপির অবস্থান

বিবৃতিতে বিএনপি স্পষ্ট করে জানায় যে, বানোয়াট এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের মনে সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করা। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিদেশি বাংলা গণমাধ্যমে প্রকাশিত অসত্য বক্তব্য সম্পর্কে দেশের জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

বিএনপি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে যে, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে ‘এই সময়’ পত্রিকার এমন ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তারা এই ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি কোনো বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার দেননি। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে মনগড়া এবং এর কোনো সত্যতা নেই। এই মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বিএনপি মনে করে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের সকল গণমাধ্যম এবং জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এই ধরনের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হন। দলটির নেতাকর্মীরাও যেন এই বানোয়াট তথ্যে প্রভাবিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের একটি চক্রান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এবং গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির এই অভিযোগের পর ‘এই সময়’ পত্রিকার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, এই ধরনের ঘটনা সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।