বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, দেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা শেখ হাসিনার সরকারের মতো আরেকটি ফ্যাসিবাদী বা দুর্বল সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তার এই সতর্কবাণী দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এমন একটি সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তা দেশকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের পেছনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্যগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতির একটি প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক আসন লাভ করা, বিশেষ করে সেইসব দলের জন্য যারা প্রচলিত প্রত্যক্ষ ভোট পদ্ধতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম নয়। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনৈক্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা, যার ফলে কোনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সহজে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তার মতে, এই পদ্ধতি মূলত কম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিশেষভাবে লাভজনক হতে পারে, কারণ এটি তাদের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি সুযোগ তৈরি করে, যা তারা অন্যথায় অর্জন করতে পারত না। সংবিধান ও নির্বাচন পদ্ধতির সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা দেশের সংবিধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে, জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। এই সাংবিধানিক বিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ জামাত ইসলামী দলকে আহ্বান জানান যেন তারা সংবিধান খুলে এই মৌলিক বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে দেখে। সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করিয়ে দেন যে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর নির্দেশনা অনুসরণ করা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য বাধ্যতামূলক। তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যদি অসাংবিধানিক, অরাজনৈতিক বা অবৈধ কোনো দাবি উত্থাপন করা হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয়। এমন দাবি মেনে নিলে তা সমগ্র জাতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান সরকারকে একটি সাংবিধানিক সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা। তিনি জোর দেন যে, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। জনমত ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি জনগণের মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণার অভাব নিয়েও সালাহউদ্দিন আহমদ তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি একটি সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল উল্লেখ করে জানান, ওই জরিপে দেখা গেছে যে দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি কী, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। এই তথ্যের বিপরীতে তিনি বাংলাদেশ জামাত ইসলামী দলের একটি দাবির সমালোচনা করেন, যেখানে তারা বলছে যে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি চায়। সালাহউদ্দিন আহমদ এই ধরনের দাবিকে জনমতকে বিভ্রান্ত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে, এমন অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা যাবে না। তিনি মনে করেন, জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং তাদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সালাহউদ্দিন আহমদ তার এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ ল স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স (বিএনবিএলএসএ) কর্তৃক আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় করেন। এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন পদ্ধতি এবং সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।