জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক কূটচালের অংশ হিসেবে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে বারবার রাজনৈতিক বলির শিকার করা হয়েছে। তিনি এই বিষয়টি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বিগত সময়ে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজে এক আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, রাজনৈতিক কূটচালের অংশ হিসেবে হিন্দুদের বারবার রাজনৈতিক বলির শিকার হতে হয়েছে। তার অভিযোগ, শাসকদলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার অপচেষ্টা করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ঘৃণ্য খেলায় মেতেছিল। এর ফলস্বরূপ, উৎসবের আনন্দ নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কে বদলে গিয়েছিল। রাজনৈতিক বলির শিকার হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন যে কীভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অতীতে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "প্রিয় দেশবাসী, গতকাল থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বী ভাইবোনদের সর্ববৃহৎ উৎসব: দূর্গাপূজার উৎসব। আপনারা জানেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এক আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমরা দুঃখের সাথে দেখেছি, রাজনৈতিক কূটচালের অংশ হিসেবে হিন্দুদের বারবার রাজনৈতিক বলির শিকার করা হয়েছে। শাসকদলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার অপচেষ্টা করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ঘৃণ্য খেলায় মেতেছিল। এর ফলস্বরূপ, উৎসবের আনন্দ বদলে গিয়েছিলো নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কে।" এই মন্তব্যটি অতীতের ঘটনাপ্রবাহের উপর আলোকপাত করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার অভিযোগ উত্থাপন করে। নতুন বাংলাদেশে সম্প্রীতির আহ্বান এনসিপির এই নেতা তার পোস্টে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "কিন্তু, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই নতুন বাংলাদেশে আমরা সেই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি ও ভয়ের সংস্কৃতিকে চিরতরে বিদায় জানাতে বদ্ধপরিকর। কোনো ধর্মীয় উৎসবকে আর কখনোই রাজনৈতিক কূটচালের শিকার হতে দেওয়া হবে না।" হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্বের উপর জোর দেয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই নতুন যুগে কোনো ধর্মীয় উৎসবকে আর রাজনৈতিক খেলার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সরকার এবং প্রশাসনের প্রতি একটি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে, আমি সরকার এবং প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই: আপনারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। প্রতিটি পূজামণ্ডপ, প্রতিটি ঘর এবং প্রত্যেকটি হিন্দু ধর্মালম্বী নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে এই উৎসব সম্পন্ন করতে পারেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা কঠোরভাবে নিশ্চিত করবো, অতীতের কোনো অপচেষ্টা যেন এই সময়ে পুনরাবৃত্তি না হয়।" এই আহ্বানটি দুর্গাপূজার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ একই সাথে, হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের সকল নাগরিক এবং সকল সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "একই সাথে, আমি দেশের সকল নাগরিক, সকল সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের অনুরোধ করবো—আপনারা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতামূলক ও সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকুন। মনে রাখবেন, সম্প্রীতি বা পারস্পরিক সৌহার্দ্যই আমাদের শক্তি।" তার এই বক্তব্য সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি মনে করেন, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতিই একটি জাতির মূল শক্তি। হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টের শেষে বলেন, "আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রমাণ করি, নতুন বাংলাদেশ হলো নিরাপত্তা, সম্মান এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বাংলাদেশ।