বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল ও অকার্যকর। তার এই মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য এই সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অস্থিতিশীলতার সুযোগ অনেকে নিচ্ছে, যা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক এসব কথা বলেন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অবিলম্বে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা হয়। তার মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সরকারই কেবল দেশের বর্তমান সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

গণমিছিল ও গণভোটের দাবি

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি একটি ‘ঢাকা সমাবেশ ও গণমিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা, যা একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি জুলাই সনদে একমত হওয়া প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট আয়োজনের দাবি জানান। তার মতে, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে তা সহায়ক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে। তারা মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই পারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে। সাইফুল হক তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি সতর্ক বার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থিতিশীল হতে পারে।

দলটির এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের দাবির প্রতি অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।