আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের নির্বাচন কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং সারাদেশে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিএনপির এই দাবি জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে বিএনপির একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে তাদের বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ করে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আবদুল মঈন খান। তার সঙ্গে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এই তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
বিএনপির প্রস্তাবনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা
লিখিত প্রস্তাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের উদ্বেগের কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। দলটি জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি এবং গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। এই কমিটিগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করার পর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে হঠাৎ করে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। বিএনপির মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই তড়িঘড়ি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়।
জাতীয় নির্বাচনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিএনপি তাদের লিখিত প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করেছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের এই কার্যক্রম সারাদেশে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে, বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোও এই নির্বাচনের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
দলটি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটি বৃহৎ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য অনুকূল নয়। তাই, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং একটি সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা অবিলম্বে স্থগিত করা অপরিহার্য বলে বিএনপি মনে করে।
বিএনপির প্রতিনিধিদল তাদের লিখিত প্রস্তাবে এই সকল বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে এবং নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই নির্বাচন স্থগিত করা হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে একটি সুষ্ঠু সমন্বয় বজায় থাকবে।