বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন যে, দেশে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটেছে জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সংগ্রাম এখানেই শেষ নয়। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সেই একই ঐক্য, সচেতনতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনের জামান টাওয়ারে ন্যাশনাল লেবার পার্টির কার্যালয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে তার মতামত তুলে ধরেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ

শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই স্বৈরতন্ত্রের পতন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঠিক একইভাবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে—অর্থাৎ স্বৈরতন্ত্রও শেষ হয়ে গেছে—এভাবে ভাবা ঠিক হবে না। তার মতে, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া যার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনা নিজের দলকে যেমন ধ্বংস করেছেন, তেমনিভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেও ধ্বংস করেছেন এবং নিজেকেও ধ্বংস করেছেন। দুদু আরও বলেন যে, নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের এমন কোনো ব্যাংক নেই, যেখান থেকে লুটপাট করা হয়নি। এই অভিযোগগুলো তিনি তার বক্তৃতায় তুলে ধরেন।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও ঐক্যবদ্ধতা

সাবেক সংসদ সদস্য দুদু নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের একটি পার্শ্ববর্তী দেশ আছে, যারা হত্যাকারীকে এবং গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দিয়েছে, লুটেরাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই শক্তিগুলো এখনও সক্রিয় এবং বসে নেই। দুদু দৃঢ়ভাবে বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা যেমন স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছি, ঠিক তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার মতে, জাতীয় ঐক্যই যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার।

বিএনপির এই নেতা বর্তমান সরকারের একটি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছে। দুদু বিশ্বাস করেন যে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, এই কথা আমরা বিশ্বাস করি, দেশবাসী বিশ্বাস করে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও বিশ্বাস করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রতিশ্রুতি যদি সফল করতে হয়, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমরা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে ও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারা

ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, দলের মুখপাত্র শরিফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইদুল ইসলাম আসাদ। বক্তারা সকলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।