বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জনগণ দায়সারা গোছের তামাশার কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গণমিছিলের আগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, সৎ, যোগ্য, দল নিরপেক্ষ ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের দিয়ে প্রশাসন পুনর্গঠন এবং সবার জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা ছাড়া জনগণ কোনো দায়সারা বা তামাশার নির্বাচন গ্রহণ করবে না। তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের দলবাজি বন্ধ করার ওপর জোর দেন।

ইসলামী বিধান, জনমত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, আল্লাহ মানুষকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মোট ৭৮ বছরের শাসনামলে কোনো সরকারই দেশে কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি। পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কুরআনকে সংবিধান ঘোষণা করলেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারাও সংসদে কুরআনের আইন পাস করেননি বলে তিনি দাবি করেন। দেশে আল্লাহর আইনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামি আদর্শের ছাত্রদের বিজয়ের উদাহরণ দেন এবং এই বিজয়কে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত টেনে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

“কিন্তু পাকিস্তানের ২৪ এবং বাংলাদেশের ৫৪, মোট ৭৮ বছরে কোনো সরকার দেশে কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি। অথচ পাকিস্তানে স্বপ্নদ্রষ্টা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হাতে কুরআন নিয়ে কুরআনকে পাকিস্তানের সংবিধান বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা কাজে পরিণত করেননি। স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারাও সংসদে কুরআনের আইন পাস করেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত প্রায় ১৬ বছর ধরে ‘পতিত ফ্যাসিবাদীরা’ দেশে অপশাসন, দুঃশাসন ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তবে ‘পতিতদের’ ষড়যন্ত্র থেমে নেই; তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে অগ্নিসন্ত্রাসসহ নানা অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। জনগণ এ বিষয়ে সচেতন এবং তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই দেশে বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদীদের জুলুম-নির্যাতন ও ভীতিকর পরিবেশ ফিরে আসতে না দেওয়ার জন্য ‘পতিতদের’ ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও নির্বাচনের দাবি

জামায়াত নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, অতীতের ‘আওয়ামী পদ্ধতির নির্বাচন’ জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জনগণ ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নৈশকালীন ভোট এবং ২০২৪ সালের ‘আমি ও ডামি’ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে প্রশাসনের দলবাজি বন্ধ করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন:

  • নির্বাচনের আগেই জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
  • স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদানের জন্য নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে।
  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে সকল নাগরিকের ভোটের মূল্যায়ন করতে হবে।
  • প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

মুজিবুর রহমান আগামী সংসদকে ‘কুরআনের সংসদে’ পরিণত করার জন্য নেতাকর্মীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।