বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা শাখার উদ্যোগে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনের সামনে এই মেডিকেল ক্যাম্পটি আয়োজিত হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
মেডিকেল ক্যাম্পের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী মোবারক হোসাইন। তিনি এই জনসেবামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যসেবা মৌলিক অধিকার
মেডিকেল ক্যাম্পে বক্তব্য প্রদানকালে মোবারক হোসাইন বলেন যে, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থাই পারে তার সকল নাগরিকের চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় এই মৌলিক অধিকারগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, দেশকে একটি প্রকৃত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য সারাদেশে ‘দাঁড়িপাল্লা’র বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার পাবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা
জামায়াত নেতা মোবারক হোসাইন তার বক্তব্যে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তার মতে, যখন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন কোনো মানুষই তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না।
তিনি আরও বলেন যে, মূলত কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিই মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রধান কারণ। অধিকারহারা মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশকে একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা অপরিহার্য। মোবারক হোসাইন ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগ প্রয়োজন।
এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে সক্ষম হন। এই ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সাধারণ মানুষ।