দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ঐক্য ভাঙা যাবে না। বর্তমান “জালিম ও লুটেরা শক্তিদের” কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না, অন্যথায় দেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা বিপন্ন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচনে একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনে “ঘাপটিমারা আওয়ামী লীগের দোসরদের” গ্রেফতারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংকট
শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “গণহত্যাকারীরা” পালিয়ে গেছে এবং ব্যাংক, বিমা ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে চূড়ান্তভাবে লুটপাট করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশকে পঙ্গু করার এবং ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে, এই শক্তিগুলো সম্পূর্ণভাবে চলে গেছে বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এদেশের কৃষক, শ্রমিক এবং খেটে খাওয়া মানুষসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের অধিকার ও ভোট দেওয়ার দাবি করে। বিএনপি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান গত ১৬ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে থেকে রাজপথে আন্দোলন করছেন।
নেতৃত্বের ওপর দমন-পীড়ন
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে “মিথ্যা মামলায়” ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায় ছয় বছর আটকাবস্থায় ছিলেন এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দলের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শুধু মামলা করা হয়নি, “বিচারের নামে” তাকে যাবজ্জীবন শাস্তির মতো আচরণ করা হয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন না যে তিনি দেশে ফিরলে নিরাপদ থাকবেন, তাই তিনি সময় নিচ্ছেন এবং দলও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দুদু জানান।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও লক্ষ্য
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আগামী দিনে যদি দল প্রস্তুত না থাকে, তাহলে বিপদ আসতে পারে। দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এমন একটি দলকে আগামী দিনে ক্ষমতায় আনতে হবে যারা পরীক্ষিত এবং মানুষের কথায় বিশ্বাস করে, যারা কথা দিলে তা রক্ষা করে। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে শপথবদ্ধ হতে হবে যে “ফ্যাসিস্টরা” এবং “হত্যাকারীরা” যেন কখনো ফেরত আসতে না পারে; সেটাই দলের লক্ষ্য হবে।
শামসুজ্জামান দুদু একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা আগের তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে লুটপাট করেছে বা অন্যায় করেছে, সেসব লোক যেন প্রশাসনে আর স্থান না পায়। সরকার ইতিমধ্যে বলেছে অতীতে যারা এই আচরণ করেছে, তারা ভবিষ্যতে থাকবে না। তবে, সরকারকে এই কথাটি রাখতে হবে বলেও তিনি জোর দেন।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা
আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, শাহা নেচারুল হক, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহা আব্দুল্লাহ আল বাকি, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজি, কৃষক দল নেতা শফিকুল ইসলাম সবুজ, রমিজ উদ্দিন রুমি, রবিউল ইসলাম তালুকদার রবি, আমির হোসেন দানেজ এবং মো. মুসা ফরাজী প্রমুখ।