নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৌলিক বাংলা এবং বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিজেডিডিপি) নেতারা এই অভিযোগ করেছেন। এই দুটি দল ইসির প্রাথমিক তদন্তে উত্তীর্ণ হয়েছিল। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং প্রথম তদন্তের ভিত্তিতেই তাদের নিবন্ধন দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মৌলিক বাংলার সভাপতি খান শোয়েব আমান নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই ক্ষমতাসীনদের প্রতিনিধিত্ব করছে। তার মতে, যদি কমিশন সরকারের প্রতিনিধি না হতো, তাহলে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবস্থান বা পটভূমি নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলতে পারত না। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের আচরণকে ‘অত্যন্ত অপ্রীতিকর ও সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
খান শোয়েব আমান আরও জানান যে, তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় নোট করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন,
উনারা আমাদের যেসব কথা বলেছেন তা খুবই অপ্রীতিকর, খুবই সেনসিটিভ, যা রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারি কোনো মানুষ বলতে পারেন না। ২০১২ সাল থেকে অনেক দল নিবন্ধন পেয়েছে। আমরা জানি তারা কীভাবে নিবন্ধন পেয়েছে। আমরা কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আপস করিনি। আর সেই কারণেই আজও আমরা নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত। সময় হলে আমরা ওই কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করবো।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও আর্থিক ক্ষতি
মৌলিক বাংলার সভাপতি নির্বাচন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসি প্রথমে তদন্ত, পরে পুনঃতদন্ত এবং এখন আবার অধিকতর তদন্ত করছে। এই দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়া দলগুলোর জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। খান শোয়েব আমান বলেন, তাদের অনেক নেতাকর্মী অন্য পেশার পাশাপাশি রাজনীতি করেন এবং বারবার মাঠ পরিদর্শনে ডেকে নেওয়ায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক ময়নাতদন্তের মতো’ বলে অভিহিত করেন, যা দলগুলোর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সহযোগিতার চেয়ে অসহযোগিতাই বেশি করেছেন। বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও তারা তাদের অফিসের মালিকের সম্পত্তির দলিল চাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিক বলে তিনি মনে করেন। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়ার মাধ্যমে কমিশন দলগুলোকে হয়রানি করছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
নিবন্ধনের দাবি ও এনসিপি প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে মৌলিক বাংলা ও বিজেডিডিপি যৌথভাবে অধিকতর তদন্ত না করে প্রথম তদন্তের ভিত্তিতেই তাদের নিবন্ধন দেওয়ার দাবি জানায়। একই সাথে তারা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানায়, যাতে নতুন দলগুলো সহজে নিবন্ধিত হতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে এই দুটি দলই নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন এখন আরও নয়টি দলের সাথে তাদের বিষয়েও অধিকতর তদন্ত চালাচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের দলটির নিবন্ধন বর্তমানে ‘শাপলা প্রতীক’ জটিলতায় আটকে আছে। এই পরিস্থিতি অন্যান্য দলের প্রতি কমিশনের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে বলে অভিযোগকারীরা মনে করেন।