জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) আন্দোলনকে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার তীব্র সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যকে ‘বালখিল্যতা’ এবং ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে। জামায়াত মন্তব্য করেছে যে, নাহিদের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে জাতি এ ধরনের অপরিণত বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।

গত রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি নাহিদ ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

জামায়াতের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী উল্লেখ করেছে যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রধান দাবি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। জামায়াত এই সমালোচনাকে ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম দাবি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির সমালোচনা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। জামায়াতের পিআর দাবির আন্দোলনকে প্রতারণামূলক ও রাজনৈতিক কৌশল বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা সর্বৈব মিথ্যা ও দুঃখজনক। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তার কাছ থেকে এ ধরনের বালখিল্য বক্তব্য জাতি আশা করে না।

জামায়াত আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, নাহিদ ইসলাম তাদের পিআর দাবির আন্দোলনকে ‘প্রতারণামূলক ও রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দুঃখজনক। জামায়াত নেতারা তাদের বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছেন যে, নাহিদ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তারা পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, দেশের জনগণ নাহিদের কাছ থেকে এমন অপরিণত ও বালখিল্য বক্তব্য আশা করে না, যা কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

জামায়াতের অবস্থান ও আহ্বান

জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলটি জানিয়েছে যে, গত জুলাই মাসে ‘জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি’ দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় তারা এই পদ্ধতির পক্ষে তাদের অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল। একইসাথে, জামায়াত রাজপথেও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির দাবিতে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছে এবং তাদের দাবিকে যৌক্তিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, জামায়াত মনে করে যে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং তার মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জামায়াত বিবৃতিতে নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দলটি আশা প্রকাশ করেছে যে, তিনি তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে এবং আরও দায়িত্বশীলতার সাথে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করবেন, যাতে জনমনে কোনো ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।