ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্‌ক্ষিপ্ত সময়ে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় পার্টি। দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, যদি নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বদলায় না এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হয় তাহলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে না।

ইসির সংলাপ ও দলের অবস্থান

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সংসদের বিরোধী দলের আসনে থাকা জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকেনি বলে দলটি দাবি করছে। মহাসচিব জানান, আনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করার পরও নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন পাতানো হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এমন অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।

“যদি পরিস্থিতি না বদলায়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হয় তাহলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে না,”

সংলাপে নেয়ার বিষয়ে কমিশন যে দলগুলোকে ডাকেনি তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তাকে ডাকা হয়নি; এ ছাড়া নথিতে জাতীয় পার্টিসহ সাতটি দলকেও সংলাপে ডাকা হয়নি। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংলাপে না ডাকলেও এসব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য নয়।

মাঠ সংগঠনের সমস্যা ও কর্মসূচি স্থগিত

দলীয় কর্মসূচিতে বাধা প্রদানের অভিযোগও জাতীয় পার্টির নেতারা করছেন। Dinajpur-এ নির্ধারিত জেলা কর্মী সম্মেলন পুলিশি বাধার কারণে হতে পারেনি বলে পার্টি জানিয়েছে; পরিকল্পিত মিলনায়তনে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই কর্মীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সামনে ছোট রোমহর্ষক পথসভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

গত কয়েক মাসে একটি ঢাকার কেন্দ্রীয় সমাবেশও পুলিশের বাধায় আর অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দল জানিয়েছে। পার্টির দাবি, কাকরাইলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের জন্য আগেই অনুমতি নেওয়া হয়; তবু শেষ মুহূর্তে পুলিশ তা প্রতিহত করে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং অনুমতির অনুপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত অভিযোগ, মামলা ও নেতৃবৃন্দের প্রস্তুতি

দলটির অভিযোগ, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করা হয়েছে, এর মধ্যে ১১টি হত্যা মামলা। এছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা মামলা রয়েছে বলে মহাসচিব বলেছেন।

একই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা, মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা এবং জনসম্মুখে সমাবেশে বাধা—এসব ঘটনার পরও পার্টি মাঠে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দৃশ্যমান। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা মহাসচিবকে জোটগত কৌশল ও সম্ভাব্য জোট বেঁধে নির্বাচন অংশগ্রহণ সম্পর্কে মতামত জানাচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক পন্ডিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের স্বাভাবিক অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বলেছেন, সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা উচিত।

পার্টির মহাসচিব জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এবং পরিস্থিতি বদলালে তবেই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।