বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি কেবিনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর রবিবার থেকে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী গত ২৬ নভেম্বর বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের উদ্বেগের কারণ। চিকিৎসকরা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা
অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী আরও উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই নিবিড় পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য হলো তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন সূক্ষ্মভাবে নিরীক্ষণ করা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসার কৌশল নির্ধারণ করা। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং তার চিকিৎসার বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রোটোকল তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তার ফুসফুসের সংক্রমণ মোকাবেলায় নির্দিষ্ট ঔষধপত্র এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশা করছেন যে, নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে।
পূর্ববর্তী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
এর আগে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ১১৭ দিন অবস্থান করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা শেষে তিনি গত ৬ মে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আসছেন। এই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল এবং এর সূত্র ধরেই ফুসফুসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
লন্ডন থেকে ফেরার পর থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন দিক নিয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক ছিলেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি এবং ফুসফুসে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যগত ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন সংযোজন।
বর্তমানে খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড তার দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।