জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘোষণা করেছেন যে, যদি তাদের দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তবে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিকদের অধিকার এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘোষণাটি সোমবার (২৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার প্রতিবেদন পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সভায় দেওয়া হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনি প্রতিবন্ধকতা

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও, অতীতের কোনো সরকারই এর প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে ‘আইসিটি আইন’ নামে একটি ‘কালো আইন’ তৈরি করা হয়েছে। এই আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা এবং বিভিন্ন উপায়ে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।

সাংবাদিক হত্যা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

জামায়াত নেতা ড. মাসুদ সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, আজ পর্যন্ত এর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। তিনি এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার প্রতি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে তুলে ধরেন এবং ক্ষমতায় গেলে এমন সকল হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তার মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সুরক্ষা

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে তারা নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

সোমবার (২৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন।