মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পাশাপাশি পাসপোর্টকেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশির কাছে এনআইডি না থাকলেও পাসপোর্ট রয়েছে, তাই পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই করে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও এনআইডি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করছেন। এই নিবন্ধন এনআইডি ব্যবহার করে সম্পন্ন হচ্ছে। তবে, প্রবাসীদের একটি বড় অংশের কাছে এনআইডি নেই এবং অনেকেই এনআইডি তৈরি করতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রস্তাব করেছে যে, বাংলাদেশি পাসপোর্টকেও পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জাল পাসপোর্ট থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, বিএনপি চায় না তারা ভোটার হন। এজন্য দলটি পাসপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাসপোর্টের ছবি পাঠিয়ে গ্রামের ঠিকানা থেকে যাচাই-বাছাই করে সঠিক পাওয়া গেলে তাকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে এবং জানিয়েছে যে, সময় কম হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

বিএনপির এই নেতা জানান, গত ১৯ নভেম্বর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি বিএনপিই প্রথম তুলেছিল। নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ভোটার করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, নতুন করে এনআইডি প্রদানের জন্যও বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো হয়েছে, যা একটি কার্যকর উদ্যোগ। এজন্য বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। নজরুল ইসলাম খান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের কার্যসূচিতে এমন একটি সুযোগ রয়েছে যেখানে নিবন্ধন থেকে বাদ পড়াদের জন্য অতিরিক্ত নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হবে। বিএনপি এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

নজরুল ইসলাম খান জানান, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন বিএনপির সহযোগিতা চেয়েছে এবং বিএনপি তাতে সম্মতি জানিয়েছে। এই নির্বাচনের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। গণভোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের মতে এটি নতুন কিছু নয়। গণভোট আইন আজ পাস হয়েছে, তাই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হওয়ার বিষয়ে নতুন কোনো বিতর্ক নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রবাসীদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেও নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ জরুরি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করার বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন। তিনি লটারির মাধ্যমে এসপি বদলির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লা এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।