জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী ভোটারদের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টকে পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাবনা পেশ করে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সিইসির সঙ্গে দেখা করে। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লা ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া

আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গত ১৯ নভেম্বর থেকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন চলছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) অঞ্চলভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সিইসি নাসির উদ্দিন গত ১৮ নভেম্বর অ্যাপটি উদ্বোধন করেন এবং ইসি একই দিনে ১৪৮টি দেশে পোস্টাল ভোটিং নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করে। ইসি জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও ভোট দিতে পারবেন। এই সময়সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাসীরা নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিএনপির প্রস্তাব ও যুক্তি

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, তাদের অনেকেই দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন করা কঠিন। তিনি বলেন,

আমরা অনুরোধ করেছি, এসব দেশে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হোক, যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার হতে পারেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, মূল নিবন্ধন শেষে যারা বাদ পড়বে, তাদের জন্য অতিরিক্ত নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

পাসপোর্টকে পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাবের কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন,

প্রবাসীদের অনেকেরই এনআইডি নেই। বাস্তব কারণে বেশিরভাগই এনআইডি করতে পারেননি এবং সব দেশেই নতুন এনআইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমরা প্রস্তাব করেছি, বাংলাদেশি পাসপোর্টকেও পরিচয়পত্র হিসেবে ধরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সহযোগিতার আশ্বাস

নজরুল ইসলাম খান জানান, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিএনপির সহযোগিতা চেয়েছে। জবাবে বিএনপি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দল হিসেবে বিএনপি প্রবাসীদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ জরুরি বলে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই প্রস্তাবনাগুলো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির মধ্যে এই আলোচনা প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।