বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্প্রতি দুটি মহানগরের দুজন সাবেক শীর্ষ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। এই সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এই প্রত্যাহারাদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট নেতারা পুনরায় দলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া এই দুই নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসেইন। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে দল তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ টি এম কামালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকে এর আগে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কার্যকলাপের কারণে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দলের বাইরে থাকার পর, এ টি এম কামাল দলের কাছে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। তার এই আবেদন দলের হাইকমান্ড কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
পর্যালোচনার পর, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বুধবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এ টি এম কামাল পুনরায় দলের মূল স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পেলেন। দলের এই সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এটি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাছিম হোসেইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসেইনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নাছিম হোসেইনও তার পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।
তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে বুধবার তার পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নাছিম হোসেইনও দলের মূল স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পেলেন এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই দুটি পৃথক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, এখন তাদের আবেদন বিবেচনা করে দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে এবং অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এই দুটি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দলের হাইকমান্ডের একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দল তার পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ পাচ্ছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।