বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল বইমুখী পাঠের গণ্ডি থেকে বের করে আনার কথা জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে একটি ‘হ্যাপিনেসভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই নতুন ধারার শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং তাদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর পল্লবীতে অবস্থিত আদর্শ শিক্ষা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে একটি নতুন একাডেমিক ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়। আমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, শিক্ষকতার পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করেন। শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ‘হ্যাপিনেস কারিকুলাম’ আমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের বাচ্চারা শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকবে—এটা আমরা চাই না।” তিনি একটি নতুন ধারার শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যেখানে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই ‘হ্যাপিনেসভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক প্রফুল্লতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে এবং তাদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আমিনুল হক বলেন যে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ–সুবিধা বাড়ানো হবে। তিনি শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার এবং খেলার মাঠের মতো মৌলিক অবকাঠামোগুলোর মানোন্নয়নের কথা বলেন। এর পাশাপাশি, তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে “আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ” গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একটি সুসংহত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও ফলপ্রসূ করে তুলবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নতিতে অবদান রাখবে। শিক্ষকতার পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মপরিকল্পনা শিক্ষকতার পেশায় আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমিনুল হক বলেন যে, সমাজে এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, অনেকে অন্যান্য চাকরি না পেলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকতায় আসেন। তিনি এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের দৃঢ় অঙ্গীকার করেন এবং বলেন, “আমরা চাই শিক্ষকতার পেশা হবে সম্মানজনক ও আকর্ষণীয়।” তিনি শিক্ষকতার পেশাকে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এই কর্মপরিকল্পনা শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকদের জন্য উন্নত বেতন কাঠামো, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা, যাতে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষকতার পেশায় আকৃষ্ট হন এবং এই পেশাকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে কার্ডভিত্তিক সেবা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাত এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও তাঁর দলের পরিকল্পনার কথা জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, “আমি পরিবর্তনের কথা বলতে চাই। আগামী বাংলাদেশে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড হাতে হাতে পৌঁছে দিতে চাই।” এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সময়মতো উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন, যা তাদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।