জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শিক্ষা ও গবেষণা সেল ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এনসিপি দৃঢ়ভাবে মনে করে যে, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ বা যে কোনো ধরনের সহিংস আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সাথে, এই ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রীয় সংস্থার জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং শিক্ষা ও গবেষণা সেলের সহ-সম্পাদক মাহাবুব আলমের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার এসেছিল। শিক্ষার্থীদের এই সমস্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এনসিপি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সহ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির একটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। তবে, দুঃখজনকভাবে, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি বলে এনসিপি জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমূল্যায়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হওয়া পিএসসি এবং বর্তমান সরকার দেশের চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন করেছে। এনসিপি মনে করে, দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীরাই জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ এবং তাদের মেধা ও শ্রম দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য। এই মেধাবী তরুণ-তরুণীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য দমনমূলক বা সহিংস আচরণের পরিবর্তে একটি গঠনমূলক সংলাপই হওয়া উচিত প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপ। এনসিপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।
এনসিপি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে যে, এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও দমনমূলক ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রের প্রতি তাদের যে স্বাভাবিক আস্থা ও বিশ্বাস থাকার কথা, তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়, কারণ এটি নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
এনসিপির আহ্বান ও সংহতি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসে। এনসিপি প্রত্যাশা করে যে, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো দ্রুততার সাথে বিবেচনা করবে এবং একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে বের করবে। দলটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি তাদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
একই সাথে, এনসিপি দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে। তারা যেন এই পরিস্থিতিতে মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানায় এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে সহায়তা করে। এনসিপি মনে করে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।