সাভারের স্মৃতিসৌধে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধা নিবেদন
বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাভার-এর জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারেক রহমান নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল বিকেলে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক অনুপস্থিতির পর দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্যোম ও নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
স্মৃতিসৌধে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ
সাভারে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানসহ শীর্ষ সারির অসংখ্য নেতা অংশ নেন। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা জেলা শাখা সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের কল্যাণ কামনায় সেখানে বিশেষ দোয়া এবং নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে নেতৃবৃন্দ জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।
জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা ও কবর জিয়ারত
এর আগে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে তারেক রহমান রাজধানী-র শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যান-এ গিয়ে তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং কবর জিয়ারত করেন। সমাধিস্থলে পৌঁছে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানান এবং দেশবাসীর শান্তি ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনর্বহালের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে চত্বরের আশপাশে উপস্থিত হন।
নিরাপত্তা ও জনভোগান্তি এড়ানোর পদক্ষেপ
তারেক রহমান সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো ধরনের ভোগান্তি যেন না হয়, সেটি অত্যন্ত কঠোরভাবে বিবেচনায় নিয়ে গুলশান-এর নিজ বাসভবনেই জোহরের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে তিনি নির্দিষ্ট পথে রওনা হয়ে মহাখালী ফ্লাইওভার, বিজয় সরণি ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এলাকা অতিক্রম করে জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। সম্পূর্ণ যাতায়াত পথ ও সমাধিস্থলের সুরক্ষায় সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।
নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতাকে সামনাসামনি দেখে আবেগে আপ্লুত হন এবং বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে এই পুনর্জাগরণ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে, তারেক রহমানের এই দেশে ফেরার ঘটনা আগামী দিনের রাজনীতিতে এবং দল পুনর্গঠনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। সার্বিকভাবে এই কর্মসূচি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শক্তিকে গণমানুষের সামনে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ