দীর্ঘ নির্বাসনের ইতি টেনে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: রাজকীয় অভ্যর্থনা ও বিস্তারিত সফরসূচি

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে নির্বাসিত ও কঠিন রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করার পর অবশেষে নিজ প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টার আগেই তিনি রাজকীয় ও ঐতিহাসিক এক যাত্রার মাধ্যমে ঢাকা-য় অবতীর্ণ হবেন বলে দলের দায়িত্বশীল ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তার এই বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশের জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা, প্রবল কৌতুহল এবং নতুন আশার সঞ্চার ঘটেছে। দীর্ঘ বছর ধরে সুদূর প্রবাসে অবস্থান করেও দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাখার পর তার স্বদেশে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত বড় ও যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার এই ঐতিহাসিক সফরের গুরুত্বপূর্ণ সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে একই ফ্লাইটে ভ্রমণ করছেন পরিবারের সদস্যসহ মোট পাঁচজন প্রতিনিধি।

উড়োজাহাজের বিস্তারিত সময়সূচি, সফরসঙ্গী ও টিকিটের বিবরণ

দলীয় সুনির্দিষ্ট তথ্য সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জাতীয় পতাকাবাহী বিশেষ প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ নম্বর ফ্লাইটে চড়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক এই ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর রাতে যুক্তরাজ্য-র রাজধানী লন্ডন শহর থেকে চূড়ান্তভাবে ঢাকা-র উদ্দেশ্যে নিজের শুভ যাত্রা শুরু করবে। ইতিমধ্যেই তিনি যুক্তরাজ্যের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যাত্রা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের এই অত্যাধুনিক উড়োজাহাজটি আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা-র বিখ্যাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অবতরণ স্পর্শ করবে।

তবে চূড়ান্তভাবে ঢাকায় অবতরণ করার ঠিক পূর্বে উড়োজাহাজটি সিলেট-এর বিখ্যাত ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নামবে এবং সেখানে নিয়মমাফিক সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি হিসেবে আনুমানিক এক ঘণ্টা সময় অবস্থান পরিচালনা করবে। এই বিশেষ ফ্লাইটের সুসজ্জিত বিজনেসবিন্যাস বা বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচজন সফরসঙ্গীর আসন ও টিকিট পূর্বেই নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরসঙ্গীদের তালিকার মধ্যে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের একমাত্র প্রিয় কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান। এছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সমন্বয়ক আবু আবদুল্লাহ সালেহ, তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানি এবং দলের অপর একজন ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি তাবাসসুম ফারহানা সফরসঙ্গী তালিকায় যুক্ত রয়েছেন। “এই সকল সফরসঙ্গীদের মোট বিমান টিকিট ক্রয় করতে ব্যয় করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৬ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দেশীয় বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা।” এছাড়া দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে যে, দলের অসংখ্য উচ্চপদস্থ নেতাকর্মী ও সমর্থক সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যক্তিগত উদ্যেগে একই ফ্লাইটের টিকিট কনফার্ম করেছেন এবং তারাও সফরসঙ্গী হয়ে দেশে ফিরে আসছেন।

বিমানবন্দরে সংবর্ধনা, ভাষণ এবং অসুস্থ মায়ের সাথে সাক্ষাতের ঘোষণা

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান-এ অবস্থিত দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠতম সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিস্তারিত কর্মসূচি প্রাতিষ্ঠানিক ও খোলামেলাভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, ২৫ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর তাঁকে বিপুল সংবর্ধনায় বরণ করে নেওয়া হবে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি নিকটস্থ রাজধানীর বিখ্যাত তিনশো ফিট উন্মুক্ত এলাকায় আয়োজিত বিশাল সংবর্ধনা সভায় যোগদান করবেন।

উক্ত সংবর্ধনা মঞ্চের কর্মসূচিতে তারেক রহমানই হবেন একমাত্র বক্তা যিনি উপস্থিত গণমানুষ ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন। উক্ত জনসভা শেষ করেই তিনি সরাসরি রাজপথ ধরে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ গিয়ে চিকিৎসাধীন তাঁর গুরুতর অসুস্থ মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে সশরীরে দেখতে যাবেন এবং চিকিৎসকদের সাথে সার্বিক কথা বলবেন। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করে তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে যাবেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #তারেক_রহমান #বিএনপি #সংবাদ