দীর্ঘ ৮ মাস পর মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ আট মাস পর তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর তিনি চিকিৎসাধীন মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

হাসপাতালে যাওয়ার আগে ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।” দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সেই সাথে তার অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আশু সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার মন পড়ে আছে ঠিক চিকিৎসাধীন মায়ের হাসপাতালের বিছানায়। আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি সরাসরি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাবো। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি এই দেশের মাটি ও দেশের মানুষকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “তার সঙ্গে বিগত দিনগুলোতে কী হয়েছে সে সম্পর্কে আপনারা সবাই ভালোভাবে অবগত। একজন সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যেন তিনি তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন।”

দীর্ঘ সাত বছর পর ঐতিহাসিক পুনরায় সাক্ষাৎ

পারিবারিক সূত্র জানায়, মা ও ছেলের এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎটি ঘটে দীর্ঘ সাত বছর পর। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে প্রায় চার মাস চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে গিয়েছিলেন বেগম জিয়া এবং চিকিৎসা শেষে সে বছরের ১৮ অক্টোবর দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রবাস জীবনের প্রেক্ষাপট

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তাকে প্রায় ১৮ মাস বন্দি অবস্থায় কারাভোগ করতে হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

এই দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং মায়ের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এই আগমনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ