তারেক রহমানের নির্বাচনী হলফনামা ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক হিসাব প্রকাশ করেছেন। দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সর্বমোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। একই সঙ্গে তাঁর পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি নিজের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পাসের তথ্য প্রদান করেছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দুটি পৃথক আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে একটি হলো বগুড়া-৬ এবং অপরটি ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন।
মামলার তথ্য ও নাগরিকত্ব অবস্থান
আইনি ও বিচারিক বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সর্বমোট ৭৭টি মামলার সব কটি থেকেই তিনি ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি ও চূড়ান্ত খালাস লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মামলা সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় কোনো আইনি জটিলতা বা মামলা অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে স্বঘোষিত তথ্যে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন যে, “তিনি এককভাবে কেবল মাত্র বাংলাদেশের নাগরিক এবং অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব তাঁর নেই।”
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ
দাখিলকৃত হিসাব অনুযায়ী, তারেক রহমানের নিজের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অনা তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁর মোট ৫০ লাখ টাকা এবং অন্য এক খাতে আরও ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর হিসেবে তাঁর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা। সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য আমানত খাতে রয়েছে যথাক্রমে ২০ হাজার টাকা ও ১ লাখ টাকা। স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে তাঁর নিজ নামে মাত্র ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের অতি সামান্য গহনা রয়েছে। অন্যদিকে আসবাবপত্র বাবদ তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। তবে তাঁর নিজ নামে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরযান নেই। এমনকি বিদেশেও তাঁর কোনো অস্থাবর সম্পত্তি নেই বলে হলফনামায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাঁর নিজ নামে কোনো ধরনের কৃষিজমি বা বাসযোগ্য অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ১.৪ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। অপরদিকে তাঁর সহধর্মিণী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের নামে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৯১ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে ১১১.২৫ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত। যৌথ মালিকানায় একটি ৮০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন এবং উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ২.৯ শতাংশ জমির ওপর একটি ভবন রয়েছে।
ঋণ ও আয়কর সংক্রান্ত তথ্য
হলফনামায় তিনি ব্যাংক বা রাষ্ট্রীয় ঋণ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, “ব্যক্তিগতভাবে কিংবা যৌথভাবে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া কোনো ঋণ নেই।” তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি নন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে দেখা যায়, তাঁর বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ছিল ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #হলফনামা