ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির নির্বাচনী রূপরেখা ও আধুনিক পরিকল্পনা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রীড়া খাতের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও আধুনিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে দলটি একটি সুনির্দিষ্ট এবং বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। দলীয় প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সংবলিত ইশতেহার ও লিফলেট সাধারণ ভোটার এবং যুবসমাজের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি ও শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি

বিএনপি-র প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন বা শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। শিক্ষাব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা তথা চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ক্রীড়াকে বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া মেধাবী ও প্রতিভাবান খুদে অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ সরকারি বৃত্তির ব্যবস্থা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপন

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিশাল পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ-এর ৬৪টি জেলায় সব ধরনের আধুনিক ইনডোর সুবিধাসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। একই সাথে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণের সুবিধার্থে দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগে বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) নতুন শাখা খোলা হবে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করে তরুণদের খেলার উপযোগী করে ফিরিয়ে আনার কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ ও একাডেমি

তৃণমূল থেকে ভবিষ্যৎ অ্যাথলেট গড়ে তুলতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” নামে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ ও অ্যাথলেটদের নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, শুটিং ও আর্চারিসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য প্রশিক্ষণে আধুনিক একাডেমি গড়ে তোলা হবে। এসব কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রতিটি উপজেলায় পৃথক ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, নারী বিকাশ ও জিডিপিতে অবদান

আধুনিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খেলাধুলার জন্য বিশ্বমানের বিদেশি কোচ নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি নারী ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও আধুনিক সুবিধা সংবলিত বিশেষ স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী সফল খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা সুবিধা চালু করা হবে।

বিএনপি ক্রীড়া খাতকে একটি সম্ভাবনাময় বৃহৎ শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর মাধ্যমে ক্রীড়া খাতকে জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার মতো পর্যায়ে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

#ক্রীড়া_উন্নয়ন #বিএনপি #নির্বাচনী_ইশতেহার #বাংলাদেশ