ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এনসিপির পথযাত্রা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জুড়ে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে বিস্তৃত নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির)। এই দীর্ঘ পদযাত্রার অংশ হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে একাধিক জনসভা, পথসভা এবং মতবিনিময় কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে প্রথম ধাপের কর্মসূচি

এই ব্যাপক কর্মসূচির প্রথম দিনে চট্টগ্রাম শহরের শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর সকালে চট্টগ্রাম মহানগরে একটি জনবহুল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। চান্দগাঁও এলাকার জনসভা সমাপ্ত করে নেতাকর্মীরা বিকেলের মধ্যে লক্ষ্মীপুর অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে একটি বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন। পরদিন সকালে নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি বিশাল জনসভা আয়োজন করা হয় এবং একই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিস্তৃত প্রচার

পরবর্তী দিন সকালে কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বড় পথসভা এবং বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পদযাত্রা এগিয়ে যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে, যেখানে মৌলভীবাজার জেলায় সকালের জনসভা এবং বিকেলে সিলেট মহানগরে সুবিশাল পথসভা আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সংযোগস্থলে প্রচারের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলায় জনসভার আয়োজন করা হয়। ওই দিন বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকায় জনসভা এবং সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শহর ও টাঙ্গাইল জেলায় পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। সুশাসন ও সংস্কার প্রতিষ্ঠাই এই সমগ্র পদযাত্রার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য বলে নেতারা ব্যক্ত করেন।

উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও ঢাকায় চূড়ান্ত গণসংযোগ

পদযাত্রার পরবর্তী পর্বে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মনোযোগ বৃদ্ধি করা হয়। রংপুর অঞ্চলে পৌঁছে গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কাউনিয়া, কুড়িগ্রাম ও রংপুর মহানগরে একাধিক পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নাটোর এবং রাজশাহী জেলায় বিস্তৃত প্রচার অভিযান চালানো হয়, যেখানে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে রাজধানীতে মহাসমাবেশ

নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে প্রচারের গতি আরও বৃদ্ধি করে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খুলনা, পিরোজপুর এবং বরিশাল মহানগরে একের পর এক পথসভা ও জনসভা সম্পন্ন করে দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পদযাত্রার শেষ ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলায় মধ্যাহ্ন সভা এবং সর্বশেষ রাজধানী ঢাকা শহরে একটি বিরাট সমাপনী জনসভার মাধ্যমে এই দীর্ঘ পথযাত্রার ইতি টানা হয়। “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য,”—বলেন দলের নীতি নির্ধারকরা। এই সামগ্রিক উদ্যোগ জাতীয় নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #এনসিপি #গণভোট