জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের মহামান্য রাষ্ট্রদূত মি. জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামী-র সেন্ট্রাল অফিসে রোববার অত্যন্ত আনন্দঘন ও সুহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কূটনীতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকের উপস্থিতিবর্গ ও গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
এই কূটনৈতিক বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি তার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফ্রান্স দূতাবাসের সম্মানিত ডেপুটি চিফ অব মিশন মি. ফ্রেদেরিক ইনজা এবং দূতাবাসের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মি. জুলিয়েন ডিউর। সফররত প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পক্ষ থেকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দলীয় প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বরত প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আন্তর্জাতিক বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং জামায়াত আমিরের আন্তর্জাতিক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও পারস্পরিক ভবিষ্যৎ উন্নয়ন
রুদ্ধদ্বার এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ-এর বিদ্যমান রাজনীতি, বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা হয়। নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষ নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে উভয় পক্ষ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক মতামত আদান-প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিবর্গ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বহু বছরের দীর্ঘস্থায়ী সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও অনেক দূর জোরদার হবে।” তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনীতি এবং পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব বজায় রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই এই ধরনের নিয়মিত আলোচনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #ফ্রান্স #কূটনীতি #নির্বাচন