তারেক রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ: ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপি-র সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বেই আজ বন্দর নগরীর সর্বস্তরের জনগণ হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মহাসংগ্রামে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও সার্বভৌমত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বীর প্রসবিনী জনপদ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্ব

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপি-র এক বিশাল মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মেয়র এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আবেগভরে স্মরণ করেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই বীরত্বপূর্ণ ভূখণ্ড থেকেই প্রথম স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ঠিক একই স্থানের বিশাল জনসমুদ্র থেকে দেশের আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমগ্র জাতি তাদের পরম আস্থাভাজন রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, বিগত ১৬ বছর ধরে সীমাহীন জুলুম ও রাজপথের কঠিন লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন বেগবান রেখেছেন। ঠিক একইভাবে দেশের সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমান দূরদর্শী ও আপসহীন নেতৃত্ব প্রদান করে সমগ্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনতাকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছেন। তার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেই আজ সাধারণ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে নেমে এসেছে।

বাণিজ্যিক রাজধানী গঠন ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার রূপরেখা

ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়ন ও অর্থনীতির পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে চট্টগ্রাম-কে দেশের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যক্ষম বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বাস্তবে রূপান্তর করা হবে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রে শহরটিকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বা আধুনিক অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও সবুজ খেলার মাঠ তৈরি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের বৈষম্যমূলক ও দুঃশাসনের সমালোচনা করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সে সময় সাধারণ নাগরিকেরা ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি জানান, মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর মাত্র এক বছরের মধ্যে নগরের প্রায় চার লাখ পরিবারকে ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈষম্য নিরসনে এক বৈপ্লবিক ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাছাড়া তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সবুজ খেলার মাঠ নির্মাণের মেগা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি মাঠ প্রস্তুত করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট মাঠগুলোর কাজও পর্যায়ক্রমে দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

#চট্টগ্রাম #বিএনপি #রাজনীতি #বাংলাদেশ