চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন যে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আগামী রোববার আয়োজিত হতে যাওয়া বিএনপি-র ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। সমাবেশের জন্য গৃহীত সর্বাত্মক প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ সরাসরি তদারকি করার জন্য তিনি নিজে শনিবার দুপুরে পলোগ্রাউন্ড মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাঠের সামগ্রিক পরিকাঠামো, বিশাল প্রধান মঞ্চ স্থাপন, জনসাধারনের আসা-যাওয়ার পথ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন। একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সমাবেশ আয়োজকদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন যাতে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম

মাঠ পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে চারদিকে নানান ষড়যন্ত্র পরিচালিত হলেও তারেক রহমানের শক্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের মানুষের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে মনে করিয়ে দেন যে চট্টগ্রাম বরাবরই প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অত্যন্ত ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং রোববারের এই সমাবেশও সেই ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মহাসমাবেশ কেবল সাধারণ একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।”

বর্তমান দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে দীর্ঘকাল ধরে দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনে আওয়ামী লীগ পুরো দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এই গভীর সংকটকাল থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাই আজ জনগণের মূল আশার আলো।

সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

মহাসমাবেশ ঘিরে সাধারণ নাগরিকদের যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে। মেয়র প্রতিশ্রুতি দেন যে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই চসিকের প্রধান অগ্রাধিকার। সমাবেশে বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা দেবেন।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #বিএনপি #বাংলাদেশ