নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের তথ্য প্রকাশের ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের নাম, পরিচয় এবং ছবি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এই উদ্দেশ্যে সংগঠনটি একটি বিস্তৃত ও ধারাবাহিক তথ্য প্রকাশ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী জনসমাবেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারে কালক্ষেপণের প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাবেশ থেকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের চিহ্নিতকরণের বিশেষ উদ্যোগ

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের ব্যাপারে বিশদ অনুসন্ধান চালানো হবে। যেসব প্রার্থী বিশাল অংকের ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের ঋণের প্রকৃত পরিমাণ, যে নির্দিষ্ট সংসদীয় আসন থেকে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাদের ছবি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চ দেশপ্রেমিক জনগণকে আহ্বান জানাবে যাতে তারা কোনোভাবেই এসব চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের ভোট না দেন।

একই সাথে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহনকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। সমাবেশে বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, যারা দেশে সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হলে বা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, তাদের হাতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।

গণভোট ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়

রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চ জুলাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেছে। তারা মনে করে, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ যেমন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক ও গার্মেন্টস কর্মীদের হাতে প্রকৃত রাষ্ট্রক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের সচেতন জনগণ আর কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। জুলাই সংগ্রাম ছিল মূলত দেশের সীমান্ত ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক মহান প্রতীক। যতদিন পর্যন্ত এই সংগ্রামের মূল চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবে রূপ লাভ না করবে, ততদিন পর্যন্ত জনগণকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলন ও সংগ্রাম অবিরাম অব্যাহত থাকবে।

#নির্বাচন #ইনকিলাব_মঞ্চ #বাংলাদেশ #রাজনীতি