নির্বাচনি প্রচারণায় শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হস্তান্তর: ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভা
ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে শাপলা কলি এবং ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সামাজিক সুবিচারের প্রতিশ্রুতি
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় জানান, তারা ক্ষমতায় এলে বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা বেকার ভাতা দেবো না, কারণ এতে বেকারত্ব দূর না হয়ে আরও বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্রের অর্থ থাকলেও কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত ৫৪ বছরে দেশের শাসনব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি এবং সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলশ্রুতিতে যুবসমাজ নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের জোট সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে এবং দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গর্ব করার মতো একটি সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত করবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গণভোট ও আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরে জোটের শীর্ষ নেতারা ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। গণভোট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম কাজ হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা, যাতে দেশ বিজয়ী হতে পারে।” পাশাপাশি নির্বাচনি কারচুপি প্রতিরোধে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
পুরান ঢাকার সমস্যা ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার
জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দেশের সার্বিক সংস্কারের মূল চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। তিনি শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত দাবি করেন এবং গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলেই দেশের জনগণ বর্তমান অচলাবস্থা থেকে চূড়ান্ত মুক্তি পাবে।
অন্যদিকে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান পুরান ঢাকা-র দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং স্থানটিকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য বানানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জামায়াত আমিরের প্রতি অনুরোধ জানান যেন ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে এই অঞ্চলকে পুরোপুরি চাঁদাবাজমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে এক উদ্দীপনাময় পরিবেশে সমাবেশ সম্পন্ন হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ