আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রয়াত কোকোর কবরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনভর শ্রদ্ধা নিবেদন ও নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।

স্মৃতিচারণ ও কর্মময় জীবনের নানা দিক

কবর জিয়ারত শেষে কোকোর জীবনী ও কর্মময় জীবনের নানা দিক স্মরণ করে নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, কোকোর করুণ মৃত্যু জিয়া পরিবার এবং দলের জন্য আজও এক গভীর শোক ও বেদনার স্মৃতি হিসেবে বিরাজ করছে। স্বৈরাচারী শাসনের শাসনামলে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি অবরুদ্ধ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রবাসে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৪৫ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কোকো। তার এই অকাল প্রয়াণে দেশের সাধারণ মানুষ গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়েছিল। প্রিয় পুত্রের মরদেহ দেখে অবরুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়া চরম কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার মৃত্যুকে ঘিরে অপরাজনৈতিক কূটকৌশল চালানো হলেও তিনি জনগণের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা লাভ করেছেন।

ক্রীড়া ও ব্যবসায়ী হিসেবে অবদান

রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও আরাফাত রহমান কোকো নিজে কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক পদে যুক্ত ছিলেন না। বরং তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং অত্যন্ত দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই দেশজুড়ে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে, বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন। অতি সাধারণ ও বিনয়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত কোকো প্রতিনিয়ত প্রচারবিমুখ থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ চালিয়ে যেতেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সময়ও তিনি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের মতো জীবন কাটিয়েছেন এবং নিয়মিত পথশিশুদের খেলনা ও চকলেট দিয়ে চমকে দিতেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নেতাকর্মীরা বনানীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ, জাতীয় জনতা ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। উপস্থিত প্রবীণ ও তরুণ রাজনৈতিক নেতারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্মরণসভা ও মোনাজাতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জাতির শান্তি-সংহতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিএনপি #আরাফাত_রহমান_কোকো