নির্বাচনি প্রচারণায় হামলাকে ‘দমন-পীড়নের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত হাসনাত আব্দুল্লাহর

নির্বাচনি প্রচারণায় দলীয় পরিচয়ে হামলার ঘটনাকে ‘দমন-পীড়নের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ তুলে ধরেছেন যে, আজকের এই হামলা মূলত ভোটকেন্দ্র দখলের একটি ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক ও উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।

সহিংসতার নেতিবাচক প্রভাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমাদের মনোনীত প্রার্থী আদীবের ওপর যেভাবে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের সকল দলীয় প্রচার কার্যক্রমের ওপর বিএনপি-র দলীয় পরিচয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দেয়।” তিনি উল্লেখ করেন, এটি মূলত সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চরম ভয়ভীতি দেখানোর একটি পরিকল্পিত কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখে পরিষ্কার মনে হচ্ছে যে ভোটকেন্দ্র দখলের যে দীর্ঘদিনের প্রবণতা থাকে, তারই একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়ে গেল। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে যে, ব্যালট পেপারে নির্দিষ্ট প্রতীক না থাকলেও প্রয়োজনে নিজ বাড়ি থেকে ছাপিয়ে নিয়ে এসে সিল মারার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক আচরণ কখনো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায় হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের জোরালো দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বিস্তারিত জানান যে, বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-এর নারী কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার মতো উসকানিমূলক কথাবার্তা বলা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্বাভাবিক প্রচার কার্যক্রমকে যদি এভাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করা হতে থাকে, তবে এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকে যায়। এটি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা।

তিনি দাবি জানান যেন নির্বাচন কমিশন অনতিবিলম্বে সকল দলের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর দেশের জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ