জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মোট ৮টি মূল ভাগে বিভক্ত করে এই ইশতেহার চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজধানীর বনানী এলাকার বিলাসবহুল শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এটি প্রকাশ করেন। আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে স্থান পাওয়া মূল বিষয় ও বিশেষ স্মরণ

ঘোষিত ইশতেহারের প্রথম ভাগের প্রচ্ছদে বিশেষভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা। সেখানে জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা আবু সাঈদ, শরীফ ওসমান বিন হাদি এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক ও বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ছবি ও নাম অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম অংশের মূল শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ”। এই অংশের অধীনে মূল ১০টি বিশেষ সংস্কার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দলটি।

১০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ঘোষিত ইশতেহারের প্রধান ১০টি পয়েন্টের মধ্যে প্রথম ও অন্যতম প্রধান বিষয় হলো শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার। রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিকে জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এই সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইনসভার ভূমিকা জোরদার করতে একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনি ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে সুশাসন নিশ্চিতে জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন পৌঁছে দিতে স্থায়ীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিশেষ অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকার

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলার মৌলিক উন্নয়ন সাধন করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বিচারবিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে আইন ও বিচারব্যবস্থা-র যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সবশেষে, মুক্ত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের জন্য তথ্য ও গণমাধ্যম খাতের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এই ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলটির নেতারা বিশ্বাস করেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

#রাজনীতি #নির্বাচন #জামায়াতে_ইসলামী #বাংলাদেশ