কড়াইলে ড্যাবের ফ্রি হার্ট ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত

ঢাকা শহরের বনানী এলাকার অন্তর্গত বিস্তৃত কড়াইল বস্তিতে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ চিকিৎসাক্যাম্প অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। মহান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এ বিশেষ সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি আয়োজন করে চিকিৎসকদের ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এ কর্মসূচির আওতায় এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও কর্মজীবী মানুষদের হৃদরোগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত যত্নসহকারে পরিচালনা করা হয়। শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষাই নয়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দেশি-বিদেশি উচ্চমানের ওষুধপত্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। সুচিকিৎসা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত এসব মানুষের দ্বারে দ্বারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ কড়াইল বস্তির প্রান্তিক বাসিন্দাদের মাঝে অত্যন্ত ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. জুবাইদা রহমানের সরজমিনে ক্যাম্প পরিদর্শন ও সার্বিক পর্যবেক্ষণ

কড়াইল আনসার ক্যাম্পে আয়োজিত এ মানবিক চিকিৎসা কার্যক্রম সরাসরি সরজমিনে পরিদর্শন করেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টায় ক্যাম্পের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আনসার ক্যাম্প প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন এবং সেখানে আগত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সেখানে সেবা দিতে আসা বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক সমস্যার খোঁজখবর নেন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আমাদের সমাজের অবহেলিত, অসহায় ও চরম সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কেবল একটি দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সকলের অন্যতম প্রধান নৈতিক বাধ্যবাধকতা।” তিনি এ ধরনের মানবিক ও সেবাধর্মী কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বজায় রাখার জন্য আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও চিকিৎসকদের বিশেষ আহ্বান জানান।

বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিস্তারিত বিবরণ

আয়োজক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, নির্ধারিত দিনে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৫০ মিনিট ধরে এই বিশেষ চিকিৎসাক্যাম্প পরিচালিত হয়। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকদের দক্ষ ও নিবেদিত টিম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন হৃদরোগীকে সরাসরি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আগত রোগীদের সার্বিক হৃদরোগ-সংক্রান্ত শারীরিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাক-মূল্যায়নের পর রোগীদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনাপূর্বক ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বিভিন্ন দরকারি ওষুধপত্র নগদ কোনো অর্থ ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। শহরের সাধারণ বস্তিবাসী মানুষের জন্য হৃদরোগের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন চিকিৎসা প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে পেয়ে উপকারভোগীরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের সক্রিয় উপস্থিতি ও সমাজসেবামূলক দূরদর্শী অঙ্গীকার

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন এই বিশেষ চিকিৎসাক্যাম্পে আয়োজক পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বহু প্রবীণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সরাসরি উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে উপস্থিত সম্মানিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সম্মানিত সভাপতি ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি চেয়ারম্যানের সম্মানিত রাজনৈতিক উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সফল কাউন্সিলর আব্দুল আলীম নকি, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি-র সভাপতি মোমিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বনানী থানা যুবদল-এর সাবেক সভাপতি শাজাহান সরকারসহ বিভিন্ন স্তরের অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে একমত প্রকাশ করে বলেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মহৎ আদর্শ ও জনকল্যাণমুখী স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তারা সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণে এ ধরনের ফ্রি চিকিৎসাক্যাম্প এবং বিনামূল্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহৎ ও ব্যাপকভাবে পরিচালনা করবেন। বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় দেশের নিম্নআয়ের প্রান্তিক মানুষদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা অত্যন্ত দূরহ ও সাধ্যের অতীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ড্যাব কর্তৃক গৃহীত এই ধরনের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে সর্বমহলে বিবেচিত হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন যে, যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সব সময় অব্যাহত থাকবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #স্বাস্থ্যসেবা #চিকিৎসাক্যাম্প #জনকল্যাণ