চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, দেশের জনগণ যদি তাদের দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করে, তবে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সর্বাত্মক পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

উপকূলীয় মানুষের সংগ্রাম ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা

উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সীমাহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জীবনসংগ্রামের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় বলেন, “আমাদের এই উপকূলীয় অঞ্চলের সাহসী মানুষগুলো সর্বদা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেই টিকে থাকতে জানে।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের ভয়কে চিরতরে জয় করেছে, তাদের আগামী সাধারণ নির্বাচনেও সব বাধা পেরিয়ে বিজয়ী হতে হবে।

দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের প্রতিটি ইঞ্চি পবিত্র মাটি রক্ষা করা আমাদের ঈমানী ও জাতীয় দায়িত্ব।” তিনি স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হলেও মাতৃভূমির এক চিলতে মাটিও কাঙ্ক্ষিত নয় এবং এই দৃঢ় চেতনাই তাদের মূল চালিকাশক্তি।

রাজনৈতিক নিপীড়নের ইতিহাস ও নারী অধিকার প্রসঙ্গ

বিগত দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচারী শাসন আমলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পরিচালিত নির্মম দমন-পীড়ন ও চরম নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ সাল থেকেই জামায়াতে ইসলামী অনবরত ও পরিকল্পিত নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের মাত্রা আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নারী সম্মান রক্ষা ও যুবসমাজের উন্নয়ন ভাবনা

নারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জামায়াত আমির বলেন, একশ্রেণির রাজনৈতিক শক্তি মা-বোনদের চরম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের গৃহবন্দি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, “একদিকে মা-বোনদের গায়ে নির্মম হাত তোলা হবে আর অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মূলো ঝুলানো হবে, সচেতন বাঙালি জাতি কখনো এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ মেনে নেবে না।”

দেশের উদীয়মান তরুণ সমাজ ও যুবশক্তির অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, তরুণ সমাজ রাষ্ট্র বা সমাজের কাছে কোনো করুণা বা ভিক্ষা চায়নি, তারা আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও কাজের অধিকার চেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তরুণদের হাতে যথাযথ কাজের সুযোগ তুলে দিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার চূড়ান্ত দায়িত্ব প্রদান করবে।

জনগণের মুক্তি ও সার্বিক বিজয়ের লক্ষ্য

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, তাদের লক্ষ্য কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বা বিজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সমগ্র দেশের ১৮ কোটি মানুষের চূড়ান্ত বিজয়, বাকস্বাধীনতা এবং সর্বাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা দেখতে চান। জনগণের সার্বিক মুক্তিই তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য।

উক্ত নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #নির্বাচন