পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জোরালো দাবি
বনানীর সামরিক কবরস্থানে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের কবর জিয়ারত শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে জনগণের সামনে প্রকাশের তীব্র দাবি জানিয়েছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এই নৃশংস ঘটনাটি ছিল জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক সুগভীর ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের অংশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক নীরবতা
ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, ওই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে দেশের ৫৭ জন অত্যন্ত চৌকস, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেন কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ তোলেন, মূল ঘটনা ঘটানোর ঠিক পূর্বেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তাকে পিলখানায় বদলি বা পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। কারো পোস্টিং ছিল ঘটনার মাত্র এক মাস আগে, আবার কারো ক্ষেত্রে তা ছিল তিন মাস আগে। এই নিখুঁত প্রস্তুতির পরই অত্যন্ত নির্মমভাবে এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সার্বিক বিষয় উদ্ঘাটনে দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল—যার একটি গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এবং অন্যটি তৎকালীন সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এতদিন পার হয়ে গেলেও কোনো একটি তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সাধারণ জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ এই নৃশংসতার আসল রহস্য জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তদন্ত কমিশনের অসম্পূর্ণতা ও সত্য গোপনের আশঙ্কা
পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির জানান, পরবর্তীকালে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও আরও একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে দুঃখজনকভাবে সেই কমিশনের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনও আজও আলোর মুখ দেখেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হওয়ার কারণে পুরো সত্য উন্মোচিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুরো জাতি আজও চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদি সেই সময়ে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনগুলো জনসমক্ষে সঠিকভাবে প্রকাশ করা হতো, তবে জাতির সামনে অনেক অজানা ও সংবেদনশীল তথ্য উন্মোচিত হতে পারত। সত্য ধামাচাপা পড়ে থাকার কারণে প্রকৃত দোষীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা স্বাধীন দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সুষ্ঠু বিচার ও জাতীয় দায়মুক্তির আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান জোরালো ভাষায় দাবি জানান যে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, প্রত্যক্ষ উসকানিদাতা এবং সরাসরি জড়িত হত্যাকারীদের চিহ্নিাত করে কালবিলম্ব না করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে জাতির প্রকৃত দায়মুক্তি ঘটতে পারে। অন্যথায় এটি রাষ্ট্র ও সরকারের এক চরম ঐতিহাসিক ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় সরকার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও শহীদ পরিবারগুলোর দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ সত্যানুসন্ধান করে দোষীদের কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করবে।
#পিলখানা #বিডিআর_হত্যাকাণ্ড #বাংলাদেশ #জাতীয়_সংবাদ