রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেফতারের দাবি: নাহিদ ইসলামের বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম চব্বিশের জুলাই গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা না দেওয়ায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও গ্রেফতারের তীব্র দাবি জানিয়েছেন। বনানী সামরিক কবরস্থান-এ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধানের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি হলেও উক্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অভিশংসনের প্রস্তাবের আহ্বান
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে বলেন, নতুন গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়া উচিত রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত বা অভিশংসন করার একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, “সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধীদলসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এই ইস্যুতে অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি মনে করেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্য দেশে গড়ে উঠেছে, সেই ঐক্যের জায়গা থেকে এখানে কোনো প্রকার বিভেদ বা মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গণঅভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সূচনা সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হতে পারার কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে সরানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দেশের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে ক্রমাগতভাবে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের জন্য জোরালো দাবি উঠেছিল। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা সুরক্ষার স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে সেই পদে বহাল রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এখন নিছক সময়ের ব্যাপার মাত্র।
জুলাই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রপতির নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ও আইনগত পদক্ষেপ
নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন যে, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের সময়ে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তার ওপর অর্পিত মহান দায়িত্ব পালন করেননি। বরং তিনি পুরো ঘটনা জুড়ে চরম নীরব এবং নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলন চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা যখন কোটা সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন-এ গিয়েছিলেন, তখনও তার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই দেশে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হতে পেরেছে। ফলে এই ঐতিহাসিক অপরাধের দায় কোনোভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এখন সময় এসেছে তার বিরুদ্ধে সংসদীয় নিয়মে আইনি অভিশংসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে পদ থেকে বরখাস্ত করা। একই সঙ্গে গণহত্যায় তার নীরব সমর্থনের দায়ে যথাযথ আইনি মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানান তিনি।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #অভিশংসন