ইরান দূতাবাসে খামেনির স্মরণে শোক বইয়ে জামায়াতের স্বাক্ষর

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ঢাকা-য় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে খোলা শোক বইতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সকালে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি শোক বইয়ে স্বাক্ষর কার্যসম্পন্ন করেন। এ সময় রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে ইরানের সরকার, সেদেশের সাধারণ জনগণ এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।

ধর্মীয় নেতৃত্বের অবদান ও বিশেষ প্রার্থনা

শোক বইতে স্বাক্ষর প্রদানকালে জামায়াতের সংহতি প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের মহান অবদানসমূহ বিশ্ববাসী সবসময়ই অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে। এই শোকাবহ মুহূর্তে নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন। তারা বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমের প্রতি তাঁর অসীম রহমত বর্ষণ করেন এবং শোকসন্তপ্ত সকল পক্ষকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য, শক্তি ও সংহতি ধারণ করার তৌফিক দান করেন।”

বৈশ্বিক সংঘাত ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

শোক বইয়ে নিজ মন্তব্য লিপিবদ্ধ করার সময় জামায়াত নেতা বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে প্রতিনিয়ত অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের জীবনহানি ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বা স্বার্থ কখনোই সাধারণ মানুষের রক্তপাতকে বৈধতা দিতে পারে না।

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জোর দিয়ে আরও বলেন, “পবিত্র স্থান ও নিরীহ মানবজীবন মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে অর্পিত এক অমূল্য আমানত।” এই মৌলিক উপলব্ধি থেকেই বিশ্বের সকল রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলোর প্রতি অবিলম্বে চরম সংযম, গভীর প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ মানবিকতার পরিচয় দেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়। যেকোনো ধরনের রক্তপাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন তারা।

কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি কামনা

এই শোক প্রকাশ অনুষ্ঠানের সময় জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান উপস্থিত ছিলেন। তারা উভয়ই যৌথভাবে ইরান-এর জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন। একই সাথে পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানান। বিশ্বজুড়ে চরম সংকটময় এই মুহূর্তে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ওপর তারা বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।

#রাজনীতি #আন্তর্জাতিক #ইরান #বাংলাদেশ