দৌলতদিয়া ঘাটে বাস ডুবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং অমনোযোগিতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিএনপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পেছনের প্রকৃত দায়ীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সারাদেশে গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া
বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, দৌলতদিয়া ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্টে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা সারাদেশে মারাত্মক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বহুসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও হতাহতের মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময় ধরে নৌপরিবহন এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা বারবার ঘটছে। ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আগে থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হলে হয়তো এ ধরনের অহেতুক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি সহজেই এড়ানো সম্ভব হতো।
বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাদের গভীর শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়। সেই সঙ্গে ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদী থেকে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল উদ্ধারকারী সংস্থাকে উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসের বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি ঢাকামুখী বাস নদী পারাপারের উদ্দেশ্যে দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা গভীর পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রাপথে বাসটিতে আনুমানিক ৫০ জনের মতো যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
যাত্রীর সঠিক সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা
তবে বাসটি ঘাটে পৌঁছানোর পর এবং ফেরিতে ওঠার ঠিক পূর্বে কিছু যাত্রী বাস থেকে নেমে যান। ফলে ঠিক মুহূর্তটিতে গাড়িটি যখন নদীতে তলিয়ে যায়, তখন বাসের ভেতরে প্রকৃতপক্ষে কতজন যাত্রী আটকা পড়েছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং রাত পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধারসহ একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের তিনজনই নারী। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
#দুর্ঘটনা #দৌলতদিয়া #পদ্মানদী #বাংলাদেশ