হুরন নাহার রশিদের প্রয়াণ: সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপির পরম শ্রদ্ধেয় রত্নগর্ভা মা এবং সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট প্রখ্যাত শিল্পপতি মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী হুরন নাহার রশিদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাজধানী ঢাকা-র বিশিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানাবিধ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে পরিবারের সদস্য ও সম্মানিত চিকিৎসাকর্মীরা তার পাশে উপস্থিত ছিলেন। তার এই আকস্মিক প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার মানুষ, স্বজন এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে এক গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ও প্রেরণাদায়ী পারিবারিক জীবন
মরহুমা হুরন নাহার রশিদ তার পুরো জীবনজুড়ে একজন অত্যন্ত শান্ত, সুদৃঢ় ও ধৈর্যশীল মহীয়সী ও আদর্শ নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। একজন অত্যন্ত সফল শিল্পপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক স্বামীর পাশে থেকে তিনি কেবল সংসার পরিচালনা করেননি, বরং জীবনের প্রতিটি বাঁকে স্বামীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহস, পারিবারিক স্বস্তি, মানসিক শক্তি এবং নিয়মিত অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেছেন। নানা রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ এবং কঠিন সংগ্রামের দিনগুলোতেও তিনি ছিলেন পরিবারের জন্য এক অবিচল শক্তির শক্ত স্তম্ভ। কেবল স্বামীর ক্ষেত্রে নয়, সন্তানরা যাতে সমাজ ও দেশের সর্বাত্মক কল্যাণে কাজ করতে পারে সে জন্য তিনি সব সময় সৎ নীতিশিক্ষাও দিয়েছেন। ধর্মের প্রতি তার গভীর নিষ্ঠা ও ভক্তি ছিল অত্যন্ত অপরিসীম। নিয়মিত ধর্মচর্চার পাশাপাশি তিনি নীরবে অগণিত সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার সুশিক্ষায় লালিত সন্তানরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সমবেদনা
হুরন নাহার রশিদের প্রয়াণে গভীর শোক ও পরম দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-র সম্মানিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক আবেগঘন বিশেষ শোকবার্তায় মহাসচিব দল ও নিজের পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার পরম মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও তাদের অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এক শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “হুরন নাহার রশিদের মতো একজন সৎ ও পরোপকারী নারীর প্রয়াণে তার শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি আন্তরিক শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। মরহুমা হুরন নাহার রশিদ একজন খাঁটি আদর্শ নারী হিসেবে তার রাজনীতিবিদ স্বামী এবং সন্তানদের সব সময় ভালো কাজে ও রাজনৈতিক কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে নিবেদিত হতে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন।”
তিনি আরও গভীরভাবে স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, “তিনি ছিলেন এক অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, মার্জিত ও মহীয়সী নারী। তার এই চিরবিদায় পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মহান রাব্বুল আলামীন যেন এই গভীর শোকের দিনে পরিবারের সকল সদস্য ও নিকটজনদের অসীম ধৈর্য ধারণ করার সক্ষমতা দান করেন- পরম করুণাময়ের দরবারে কায়মনোবাক্যে আমি সেই দোয়াই করছি।” শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মরহুমার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও জান্নাত কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে তার জন্য বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শোকবার্তা #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ