রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ এনসিপির
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রাজধানী ঢাকা-র গুলশান এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত দলটির এক বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন যে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন মূলধারার প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্বাচনী অনিয়ম, ঋণখেলাপিদের প্রভাব ও জবাবদিহির অভাব
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে নাহিদ ইসলাম সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দেশে কঠোর প্রশাসনিক জবাবদিহির চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় ঋণখেলাপিরা এবং বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী গোষ্ঠী নানা অনৈতিক উপায়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গভীর প্রভাব বিস্তার করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে এবং দুর্নীতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।”
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা
দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের কথা উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, গণভোটের স্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের সুনির্দিষ্ট ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিদ্যমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ এবং গণআকাঙ্ক্ষার ওপর পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে অবিলম্বে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উপস্থিতি
গুলশান-এ আয়োজিত এই বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ও অভাবনীয় উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সিগফ্রিড রেংগলি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার এইচ ই ধর্মপাল বীরাক্কোদি, সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারসহ আরও বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা স্বশরীরে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানকে অর্থবহ করে তোলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা অ্যানিউ হেগোস। একই সঙ্গে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মিস ললিতা সিলওয়াল, জাপান দূতাবাসের তাকাহাসি নাওকি, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জেমস স্টুয়ার্ট, চীনা দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি, ব্রুনাই দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রোজাইমি আবদুল্লাহ, মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার আহমেদ মাইশান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ইকবাল মাহমুদ রানা, ভারতের হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভি কে গোকুল, জার্মান দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা শার্নিলা কবির, ডেনমার্ক দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আহসান সাজিদ এবং ডাচ দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার নাইমা আক্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই কূটনৈতিক ইফতার মাহফিলে শীর্ষ পর্যায়ের এত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #এনসিপি #কূটনীতি