নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী-র অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও কারিগরি কারসাজি করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের পর এই মারাত্মক অভিযোগটি তুলে ধরেছে দলটি। তারা এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা গভীরভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।

বক্তব্যের অডিও-ভিডিও পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের জোরালো দাবি

জামায়াতে ইসলামী-র উচ্চপর্যায়ের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতারা বলেন, “সাবেক উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের মূলধারার রাজনীতির জন্য এক চরম অপমানজনক ও অনভিপ্রেত ঘটনা।” দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিচার বিভাগের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেছে যেন অবিলম্বে তার দেওয়া সমস্ত বক্তব্য গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। একই সাথে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি এনে জাতীয় সত্য উন্মোচন করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত ছাড়া দেশের মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ ও অবিশ্বাস দূর করা একেবারেই অসম্ভব বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

সমাবেশে আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরবর্তী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রাজপথের এই প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে জানানো হয় যে, যখন কোনো একটি বিশেষ দলকে সংসদীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে বাধা দেওয়া হয়, তখন সেটি আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থাকে না। বরং সেটি সুস্পষ্ট ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে পরিগণিত হয়। উপস্থিত নেতাবৃন্দ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, স্বাধীন চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং বিশিষ্ট সুশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা এসব বক্তব্যের নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরেন এবং নীরবতা ভঙ্গ করেন।

ক্যাবিনেট পদায়ন নিয়ে গভীর প্রশ্ন ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল

বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলা হয়। দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পূর্বেই বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যে, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত পলিসি মেকাররা সরকার গঠনে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিদান হিসেবেই এই উপহার দিয়েছেন। এই ঘটনাপ্রবাহকে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক বিশাল আঘাত বলে অভিহিত করেছেন বক্তারা।

সমাবেশে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মহানগরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তীব্র প্রতিবাদ সভাটি শেষ হওয়ার পর এক বিশালাকার বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক যেমন পল্টন মোড় এবং বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে অবশেষে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। রাজপথের এই পদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিয়ে সরকারের স্বৈরাচারী ও ইঞ্জিনিয়ারিং মনোভাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নির্বাচন