সাবেক উপদেষ্টাদের রাজপথে নামার আহ্বান: নাহিদ ইসলামের চরম হুঁশিয়ারি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বর্তমান বিএনপি সরকার বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়ায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অন্য সকল উপদেষ্টাদের সরাসরি রাজপথে নেমে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি ড. ইউনূসের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং যেসব নীতি ও অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তাদের স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। জনগণের সামনে দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চুপ থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কঠোর সমালোচনা

নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সাবেক উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও অধ্যাদেশসমূহ পাস করে পরবর্তীতে দায়িত্ব ছেড়ে সরে গেছেন। তিনি দাবি করেন, এক ধরনের সূক্ষ্ম রাজনৈতিক সমঝোতা ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তারা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-কে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দিয়ে গেছেন। এখন যদি তাদের প্রণীত সেই সংস্কারমুখী অধ্যাদেশগুলো একের পর এক বাতিল করা হয় এবং সংস্কার কাজ স্থবির হয়ে পড়ে, তবে সেই দায় তারা এড়াতে পারেন না।

তিনি বলেন, “তারা জনস্বার্থে প্রণীত অধ্যাদেশ তৈরি করে চলে গেছেন, আর এখন বিএনপি সরকার সেগুলো বাতিল করছে। অথচ এই পরিবর্তনের মুখে তারা কোনো কথা বলবেন না এবং যার যার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে যাবেন—তা কখনো হতে দেওয়া হবে না।” তিনি কঠোর কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের কাঠগড়ায় দেশের সকল দায়িত্বজ্ঞানহীন সাবেক উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতার জন্য দাঁড় করাতে হবে।

জনগণের রক্তে অর্জিত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন

নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের অগণিত রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যদিও তারা পরবর্তীতে দেশবাসীকে চরমভাবে নিরাশ করেছেন, তবুও সেই ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে যে সামান্যতম অর্জিত সাফল্য ও সামাজিক সংস্কার সাধিত হয়েছে, তা যেন বিনষ্ট না হয়।

তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং জনগণের অর্জিত অধিকার রক্ষায় সেই অর্জনগুলো ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই কেবল ঘরের মধ্যে বসে বিবৃতি না দিয়ে সাবেক উপদেষ্টাদের অবিলম্বে সাধারণ জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে এবং মাঠে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক তাগিদ দেন তিনি।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়_নাগরিক_পার্টি #অধ্যাদেশ