নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় নাগরিক পার্টি

দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও সম্ভাব্য পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের একটি অংশ এই নতুন সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সার্বিক বিষয়টি বর্তমানে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

ইসহাক সরকারের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার চিন্তা ও প্রাথমিক আলোচনা

রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে নিয়ে। বিগত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এনসিপি-তে যোগদানের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে নতুন দলটির দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে তার প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

একটি সাক্ষাৎকারে ইসহাক সরকার জানিয়েছেন যে, “এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।” উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছরের শাসনকালে রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে সর্বাধিক মামলা ও গ্রেফতারের সম্মুখীন হওয়া নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে উঠে এসে পরবর্তীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

বহিষ্কৃত নেতাদের বিপরীতমুখী অবস্থান ও দলীয় ভবিষ্যৎ

অন্যদিকে সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নিরব। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলীয় পদ হারালেও মূল দলই তার একমাত্র রাজনৈতিক ঠিকানা। নিরব এক প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্ত করেন, “পদছাড়াই জীবনের বহু বছর রাজনীতি করেছি, ভবিষ্যতেও সেভাবেই রাজনীতি চালিয়ে যাব। আমার অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা নেই, আমি স্কোয়াডের সঙ্গেই থাকবো।”

রুমিন ফারহানার অবস্থান ও গুঞ্জন সরাসরি প্রত্যাখ্যান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অর্ধেকেরও বেশি আসনে নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাদের অনেকেই মূল দলে ফেরার জন্য প্রহর গুণলেও হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। ফলে এই বিশাল সংখ্যক নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আপাতত চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই অতিক্রম করছে।

এদিকে এনসিপি-তে যোগদানের সম্ভাবনা ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন পুরোপুরি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি এ ধরনের সব খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অপপ্রচার বলে আখ্যায়িত করেছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “দল থেকে বহিষ্কারের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন আমার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছিল। এমনকি নতুন গঠিত এনসিপির পক্ষ থেকেও তাদের জোটে কিংবা দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আমি সেই প্রস্তাবে বিন্দুমাত্র সাড়া দেইনি। তাদের আহ্বানকে আমি সাধারণ বিষয় হিসেবে হেসে উড়িয়ে দিয়েছি এবং এ বিষয়ে আলোচনা আর সামনে বাড়াইনি।”

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #এনসিপি #বিএনপি #জাতীয়_রাজনীতি